তারকারা নিষ্প্রভ আওয়ামী লীগে

0
32

আওয়ামী লীগ তার প্রতিষ্ঠার ৭২ বছর পালন করল গতকাল। আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক সংগঠন নয়, একটি সাংস্কৃতিক দিক থেকে একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। বাঙালির সংস্কৃতিকে ধারণ, লালনপালন এবং বিকাশের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি রাজনৈতিক লড়াই ছিল না একটি সাংস্কৃতিক লড়াই ছিল। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বা মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে আমাদের যে সংস্কৃতির জাগরণ সেটি বাঙালির চেতনাকে অনেকদূর এগিয়ে যেমন নিয়েছে তেমনি আমাদের সংস্কৃতির ঐতিহ্যভান্ডারও সমৃদ্ধ হয়েছে। সেই আওয়ামী লীগ টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে কিন্তু এসময় সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যক্তিরা যেন উপেক্ষিত হয়েছেন। এখন আওয়ামী লীগ তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেছে কিন্তু সংসদে বা সরকারের কোথাও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের তেমন কোনো ভূমিকা নেই। বর্তমান সংসদে তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে আওয়ামী লীগের। এই বিপুল এমপির মধ্যে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে তারকা ব্যক্তিত্ব হাতেগোনা কয়েকজন। আর এরাও খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। আওয়ামী লীগের যে সমস্ত সংস্কৃতি এবং ক্রিড়াক্ষেত্রে যে সমস্ত তারকারা রয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:

nagad 011
বিজ্ঞাপন

আসাদুজ্জামান নূর: আসাদুজ্জামান নূর নীলফামারী-২ থেকে নির্বাচিত। গত মেয়াদে তিনি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিন্তু এবার তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু দলীয় কোন কর্মকাণ্ড বা সরকারের কোনো কর্মকাণ্ডে তার সরব উপস্থিতি দেখা যায়না। মুজিববর্ষে তিনি কিছুটা ছিলেন কিন্তু সেই সময় তাকে নিষ্প্রভ দেখা গেছে।

সুবর্না মোস্তফা: সুবর্না মোস্তফা সংরক্ষিত ৪ আসনের এমপি। এবার মহিলা সংরক্ষিত আসনে এমপি মনোনয়নের ক্ষেত্রে সুবর্না মোস্তফাই ছিলেন সবচেয়ে বড় চমক। তার তারকা খ্যাতি নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই কিন্তু আওয়ামী লীগে এসে তিনি ম্রিয়মাণ, ম্লান। তাকে খুব একটা দলীয় কর্মকাণ্ডে বা সরকারে তাকে খুব একটা দেখা যায়না। একরকম নিভৃতে, নিঃশব্দে জীবন কাটাচ্ছেন সুবর্ণা মোস্তফা।

আকবর হোসেন পাঠান: ফারুক নামেই পরিচিত আকবর হোসেন পাঠান। তিনি ঢাকা ১৭ আসন থেকে নির্বাচিত। কিন্তু বর্তমানে তিনি অসুস্থ। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। আর এ কারণেই হয়তো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি নেই।

বিজ্ঞাপন

মমতাজ বেগম: মমতাজ বেগম বাংলাদেশ সঙ্গীতাঙ্গনে উজ্জ্বল তারকা। তিনি প্রথমে আওয়ামী লীগে সংরক্ষিত আসনে এমপি হয়েছিলেন। এরপর তিনি সরাসরি নির্বাচিত এমপি মানিকগঞ্জ ২ আসন থেকে। গানের জগত মাতালেও সংসদে বা সরকারের রাজনীতিতে মমতাজ বেগম খুবই ম্রিয়মাণ। তাকে খুব একটা তৎপর দেখা যায় না এবং আওয়ামী লীগও তাকে যে খুব একটা ব্যবহার করছে তেমনটি মনে হয় না।

মাশরাফি বিন মর্তুজা: মাশরাফির মন্ত্রী সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তারকা নন, ক্রীড়াঙ্গনের তারকা। নড়াইল এক্সপ্রেস, বাংলাদেশে ক্রিকেটের আইকন। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেট তারকাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে তিনি প্রথম। কিন্তু আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে এমপি হওয়ার পর মাশরাফিকে জাতীয় রাজনীতিতে কিংবা আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অত তৎপর দেখা যায় না। তিনি যেন সংসদে এসে আলো ছড়াতে ব্যর্থ হলেন।

তারকারা কেন আলো ছড়াতে পারে না সে নিয়ে হয়তো বিতর্ক আছে। কিন্তু এই পাঁচ তারকা আওয়ামী লীগে থাকাটাই আওয়ামী লীগের জন্য একটা বড় প্রাপ্তি।