মা’র অভিপ্রায়ে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিনীত প্রার্থনা

0
32
বিজ্ঞাপন

– মুন্সী বশীর

ধর্মজাতি নির্বিশেষে সমস্ত জগতে মা’র কোন বিকল্প নেই। এটা প্রকৃত সত্য মা’র সাথে ভূ-পৃষ্ঠের কোন বস্তুর উপমা হয় না। সুন্দর, অশোভন, শ্রীহীন, প্রতিবন্ধী প্রভৃতি যেমনই হোক না কেন বস্তুতঃ মা অনুপম ও সুমহান।

সন্তানের দৃষ্টিতে যেমন মা’র মতো সৌম্য, মহত্তম দোষ মার্জনাশীল, ধীরোদাত্ত, ধৈর্য্যশীল ও দানশীল মহাবিশ্বে দ্বিতীয় কেউ নেই, তেমনি একজন মা তার সন্তানের জন্য যে কোন পর্যায়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে কখনো দ্বিধাবোধ বা ইতস্ততঃ বোধ করেন না।

সন্তানের উন্নতিসাধন ও কল্যানের লক্ষ্যে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা-দীক্ষা ইত্যাদি প্রদানের প্রকৃত অভিসন্ধনে সর্বক্ষেত্রে মা সর্বোত্তম নিয়ন্ত্রিত চেষ্টায়, মৃত্যুর পূর্বমূহুর্ত পর্যন্ত স্বয়ং নিজে ব্যাপৃত থাকেন। সাধারণত মা’র স্বীয় বুভূক্ষা সহজে পরিপাক বা বরদাস্ত করে নিজে না খেয়ে সন্তানের প্রতি আহার্যদ্রব্য অর্পণ করেন।

সন্তানের প্রতি অন্ন সম্প্রদান এর ব্যাপারে ভক্ষদ্রব্যের অবিদ্যমানতার দরুন তা আহরণের যথার্থ চেষ্টায় লাজ লজ্জ্বা বিসর্জন দিয়ে প্রয়োজনে মা বিনা দ্বিধায় ভিক্ষা করেন। ক্ষেত্রে বিশেষ-মানবজাতির সংখ্যাতীত বিভিন্ন দোষ ত্রুটি, নিকৃষ্ট আচরণ, অপকর্ম ও নিগ্রহ সকলের ক্ষেত্রে কখনো ক্ষমার যোগ্য নহে এবং উপলিপ্ত বিষয়সমুহের যেমন-সেইরূপ বিচার হয় বটে কিন্তু মা’র প্রতি সন্তান যে প্রকার সীমাহীন কদর্য অন্যায় অপরাধ করুক না কেন তা বিনা বিবেচনায় মা অনায়াসে সন্তানকে ক্ষমা করতে সক্ষম।

সুদীর্ঘ দশ মাস গর্ভেধারণ করে ভূ-পৃষ্ঠে সন্তানের পদার্পণের অভিলাষে মা’র ধৈর্যধারণের পরিমাপ অপরিসীম। মা’র অসীম কষ্টার্জিত সন্তানের পক্ষে এহেন ধীরতার মূল্য টাকা ও ধনদৌলতের মাধ্যমে প্রত্যার্পণ অসম্ভাব্য। সেহেতু মা অসদৃশ, উদার, অতুলনীয়, অত্যন্ত মহৎ, স্নেহশীল, ক্ষমাশীল ও নিশ্চয় নিরুপম।

মা হারানোর অসহনীয় ব্যথা কত যে মর্মস্পর্শী, যন্ত্রনা ও বেদনাদায়ক তা আমি যাপিত দিনে অনুভব করতে প্রতিনিয়ত অক্ষম ছিলাম এবং এ সংক্রান্ত ব্যাপারে অনুভূতি অর্জনের প্রচেষ্টা আমার কোনদিন ছিল না। আর তাই মাকে খোয়ানোর পরক্ষণে মা’র প্রতি অবজ্ঞা ও অবহেলা, নিজেকে নির্মম নিষ্ঠুর, মনুষ্যত্বহীন, পাষাণ, স্বার্থপর ও ভীষণ অপরাধী মনে হয়। মা’র স্মৃতি স্মরণাবস্থায় প্রতি মূহুর্তে প্রতিক্রমে আমার শ্বাসরহিত, মনে হচ্ছে জীবন অনর্থক যা ভাষায় প্রকাশ করা দুর্বোধ্য।

এমতাবস্থায় মা’র বিদায় লগ্নে তা উপলদ্ধি করতে ও বুঝতে সক্ষম হয়েছি যে, মা কেবল অসাধারণই না অত্যন্ত নিরুপম ও অবশ্যই উপমাহীন। পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় সম্পদ “মা” একজন অভিবাবক হিসেবে মা’র অবস্থান নিরন্তর পাশে ছিলো বলে কক্ষনো কোন কিছুর অভাব অনটন, দুঃখ-কষ্ট বিন্দুমাত্র অনুভব করতে হয়নি। নিরন্তর গর্ববোধ হত যে, আমি স্বয়ংসম্পূর্! মা নিকটস্হ সেহেতু আমি পরিপূর্ণ। কিন্তু মা’র অবর্তমানে নিজের অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত গভীর শূন্যতা ও হাহাকার বিরাজ করছে, ঠিক এই মূহুর্তে আমার প্রতীতি হচ্ছে যে, আমি অজস্র কিছু হারিয়ে ফেলছি! যা জীবনে কখনো ফিরে পাওয়া অসম্ভব। বাস্তবিক পক্ষে “মা” শব্দ কত সুমধুর, কত যে প্রশান্তি, কত স্বাদ, তৃপ্তি, আহ্লাদ, স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রকৃত ভালোবাসা লুকিয়ে আছে তা অবশ্যই কল্পনাতীত! এটা মায়ের পক্ষে পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালা’র অশেষ কৃপা ও গুপ্ত তত্ত্ব।

মৃত্যু স্রষ্টার একটি অবধার্য্য বা প্রতিপন্ন চির নিয়ম ও সত্য এবং মনুষ্য পশু পক্ষী কীট ও সচেতন জীব-জন্তু সকলের ক্ষেত্রে উক্ত বাস্তব বিধান বাধ্যতামূলক। মৃত্যুর স্বাদ মহাবিশ্বের সকল প্রাণীকেই একদিন নিশ্চয় ভোগ করতে হবে (সূরা আনকাবূত, আয়াত ৫৭)

শুধু বিধাতা ব্যতীত উক্ত প্রচলিত প্রথা অবস্থায় করার প্রভাব বা সামর্থ্য কারো নেই।

“মা-যেতে নাহি দিব তোমায়,
তবু যেতে দিতে হয়”
বহন করতে আজ্ঞাবহ প্রবল ব্যথা, মনস্তাপ ও যাতনা।

সুপ্রিয় “মা” ঠিক এই মূহুর্তে আমি জানি না আপনার আত্মার অবস্থান কোথায়, তবে যেখানেই থাকেন না কেন মা, আপনার প্রতি আমি সদা কৃতজ্ঞ ও অতীব ধন্য। মহান সৃষ্টিকর্তার পবিত্র মজলিসে আমার বিনম্র প্রার্থনা ও আকুলীভূত যে, আমার মায়ের সমস্ত ভুলভ্রান্তি মার্জনা করে মা’র জন্য অনুগ্রহপূর্বক দয়া করে বেহেস্তের প্রবেশপথ আপনি উম্মুক্ত করে দেন। আমিন।

সমগ্র অবনীর মা’সমূহের প্রতি আমার সুগভীর শ্রদ্ধা, সহস্র সালাম, সম্মান, দোয়া ও শুভ কামনা রইল।

লেখকঃ- মুন্সী বশীর; কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ।
মন্ট্রিয়াল-কানাডা। ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২২ইং